একাডেমিক

জন্মভূমি কবিতার বিষয়বস্তু অবলম্বনে প্রিয় জন্মভূমি সম্পর্কে বর্ণনা দিয়ে প্রবাসী বন্ধুকে একটি পত্র

প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, আশা করছি তোমরা খুবই ভালো আছো। তোমরা কি ৬ষ্ঠ শ্রেণির ২১তম সপ্তাহের বাংলা এসাইনমেন্টের উত্তর বা সমাধান সম্পর্কে ধারণা নিতে চাচ্ছো? কিংবা এসাইনমেন্টটি কিভাবে প্রস্তুত করতে হয় সে সম্পর্কে জানতে আগ্রহী? তাহলে বলবো তোমরা ঠিক ওয়েবসাইটে এসেছো। তোমাদের জন্য আজকের আর্টিকেলটিতে রয়েছে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ২১তম সপ্তাহের বাংলা এসাইনমেন্টের উত্তর বা সমাধান– জন্মভূমি কবিতার বিষয়বস্তু অবলম্বনে প্রিয় জন্মভূমি সম্পর্কে বর্ণনা দিয়ে প্রবাসী বন্ধুকে একটি পত্র।

৬ষ্ঠ শ্রেণির ২১তম সপ্তাহের বাংলা অ্যাসাইনমেন্ট

অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশের গ্রেড অনুযায়ী ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সর্বশেষ অ্যাসাইনমেন্ট অর্থাৎ ২১ তম সপ্তাহের প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। ৬ষ্ঠ শ্রেণির ২১তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশের মাধ্যমে নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহের ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ২০২১ শিক্ষাবর্ষের অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রমের সমাপ্তি হলো।

অ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজ:

তোমার পঠিত জন্মভূমি কবিতার বিষয়বস্তু অবলম্বনে তোমার প্রিয় জন্মভূমি সম্পর্কে বর্ণনা দিয়ে প্রবাসী বন্ধুকে একটি পত্র লেখ।

তোমার পাঠ্য বইয়ের ৮২ ও ৮৩ পৃষ্ঠার ব্যক্তিগত পত্রসমূহ পড়বে।

৬ষ্ঠ শ্রেণির ২১তম সপ্তাহের বাংলা অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান বা উত্তর

তারিখ: ২০.১০.২০২১

বক্সগঞ্জ বাজার,

কুমিল্লা, বাংলাদেশ

প্রিয় এঞ্জেলা,

আমার শুভেচ্ছা নিও। অনেকদিন পর গতকাল তোমার চিঠি পেলাম। আমার কাছে লেখা এটি তোমার প্রথম চিঠি। শুনে ভালো লাগলো তুমি বাংলা পড়তে পারো।

তাই এ চিঠি বাংলায় লিখছি। এতদিনের চিঠিতে শুধুই জানতে চেয়েছ আমার সম্পর্কে, আর এই প্রথম কি না জানতে চাইলে আমার দেশ, আমার দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে তোমার আগ্রহ আমাকে অনুপ্রাণিত করছে অনেক কিছু লিখবার। কিন্তু বাংলার এ অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য ভাষায় আর কতটুকু বা ফুটিয়ে তোলা যায়।

তুমি মানচিত্রে নিশ্চয় খেয়াল করেছো বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ। আমাদের দেশের মতো এমন সুন্দর দেশ বিশ্বে কী আর কোথাও আছে?

ষড়ঋতুর এদেশ একেক সময় একেক রকমভাবে সজ্জিত হয়। একেক ঋতুর ফুল একেক রকম। এদেশের সব জেলাতেই ছড়িয়ে আছে নদী। যেন নদীর বুকেই এদেশ ভাসমান। অসংখ্য খালবিল, নদীতে জেলের মাছ ধরার নৌকা আর পাল তুলে মাঝির দাঁড় টানার দৃশ্য যে কী অপূর্ব হতে পারে তা নিজে না দেখে বিশ্বাস করা যায় না। এছাড়া বাংলাদেশের যে দিকেই তাকাও- শুধু সবুজ আর সবুজ।

জন্মভূমি কবিতার বিষয়বস্তু অবলম্বনে প্রিয় জন্মভূমি সম্পর্কে বর্ণনা দিয়ে প্রবাসী বন্ধুকে একটি পত্র

পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলা নিকেতন । এদেশে রয়েছে উঁচুনিচু পাহাড়, সুনীল সাগর, অবারিত মাঠ, সুবিস্তৃত সুনীল আকাশ– যা এক অপূর্ব চিত্তহারী সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে । নদীবিধৌত সরস ভূমি বলেই হয়তাে এখানে অনায়াসে অসংখ্য বৃক্ষ জন্মে— যা সবুজের সমারােহ সৃষ্টি করে।

আবার এদেশে বিভিন্ন অঞ্চলভেদে প্রকৃতির আলাদা সৌন্দর্য লক্ষণীয়। ভাওয়াল, মধুপুর ও লালমাই পাহাড়ের গজারি ও শালবন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চল, উত্তরে গারােপাহাড়, সিলেটের চা বাগান, দক্ষিণের সুন্দরবন আর দ্বীপগুলাে অপূর্ব সুষমামণ্ডিত। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে থাকা দ্বীপভূমিতে তাল, নারকেল আর সুপারির বাগানে শােনা যায় বাতাসের মধুর গুঞ্জরণ। সমুদ্রের উত্তাল গর্জনে ভেসে আসে ভাষার অব্যক্ত ছন্দময়তা।

চট্টগ্রামের ফয়েজ লেক আর ঢাকার বিলাসী বাগানের টবের গাছে শিশির বিন্দুর নরম ছোয়ায় মনােমুগ্ধকর সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে। এ সৌন্দর্য কবি জীবনানন্দ দাশের দৃষ্টি এড়ায়নি। তাই তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন—

বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি ,তাই আমি পৃথিবীর রূপ
খুঁজিতে যাই না আর- অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে
চেয়ে দেখি ছাতার মতন বড়াে পাতাটির নিচে বসে আছে
ভােরের দোয়েল পাখি- চারদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তুপ
জাম-বট-কাঁঠালের-হিজলের-অশ্বথের করে আছে চুপ……

গ্রামবাংলার সৌন্দর্যই এদেশের প্রকৃত সৌন্দর্য। ৮৭ হাজারেরও বেশি গ্রাম নিয়ে আমাদের এই বাংলাদেশ। এদেশের মাঠে মাঠে সােনার ফসল ফলে। গ্রামে গ্রামে আম-কাঠাল তাল-নারকেল সুপারি খেজুর গাছের সারি। প্রকৃতি | এখানে অকৃপণ। যেন সৌন্দর্যের হাট বসেছে পল্লিতে। যেদিকে চোখ যায় কেবল অন্তহীন সবুজের সমারােহ। তৃষ্ণার্ত চোখে নেশা ধরে যায়।

মনে হয় বিচিত্ৰবেশী প্রকৃতি যেন তার সৌন্দর্যে মিশে যেতে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। শ্যামল বৃক্ষের শােভা আর ছায়াস্নিগ্ধ পল্লির কুটিরগুলাে যেন শীতল পরশ দিয়ে ভালােবেসে সবাইকে আপন করে নেয় । মাঠে মাঠে রাখালের গােরু চরানাে আর মাতাল বাঁশির সুর উদাস দুপুরকে ভরিয়ে দেয়।

কোথাও কোথাও পায়ে চলা পথের ওপর বাঁশঝাড় অবাধ্য ভঙ্গিতে নুয়ে পড়েছে। মাঠের মধ্যে বিচিত্র বক্ষরাজি শােভা পায় । স্তব্ধ অতল দিঘির কালাে জল আর আকাশের নীলে যেন বন্ধুত্বের মেলা বসে। তপস্বীর ন্যায় ঝরি নামা বটতলা যেন এক নির্ভরতার আশ্রয়।

পলিমায়ের আঁচলে সােনা ঝরে। সে আচলের পরশে বাংলার মানুষের জীবনেও আসে সখ আর আর প্রশান্তি। বাংলার পল্লিতে জারি, সারি, ভাটিয়ালি সুরের এক অকৃত্রিম বন্ধন । সে বন্ধন যেন নদীর কলকল ধ্বনির সাথে একাকার হয়েই বেজে ওঠে। এদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মুগ্ধ করে বাংলার কবি, লেখক, বাউল ও চিত্রকরদের । তাইতাে কবি লিখেছেন—

ও আমার দেশের মাটি,
তােমার পরে ঠেকাই মাথা

প্রকৃতি যেন নিজ হাতে প্রাণভরে দান করেছে এই তারুণ্যের প্রতীক ফসল তোলার সময়ে এ সবুজ মাঠ রূপান্তরিত হয় সোনালি প্রান্তরে। মাঠে মাঠে ছড়িয়ে থাকে সোনা আর সোনা। তুমি তো জানো, পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত এদেশেই অবস্থিত। বিশাল এই সমুদ্রের তীরে দাঁড়ালে পার্থিব ক্ষণস্থায়ী জীবন যেন হঠাৎ করে হোচট খায়। আর রয়েছে পাহাড়ি শহর সিলেট। এখানে শ্রীপুর নামে একটা জায়গা রয়েছে, যা শিলং পাহাড়ের খুব কাছাকাছি।

এশিয়ান হাইওয়ে যখন পাহাড়ের উদ্দেশ্যে চলে তখন মনে হয়- আর কিছুক্ষনের মধ্যেই আকাশ ছুঁয়ে যাব। শ্রী মঙ্গলে রয়েছে একটি জলপ্রপাত- মাধবকুণ্ড। সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়া থেকে যখন ভীষণ স্রোতে জল পড়ে তখন তা দেখে কোনো আগুন্তুক বিমোহিত না হয়ে পারেন না। শুধু প্রাকৃতিক নয়, বরং অনেক ঐতিহাসিক স্থানেও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। শীতের অতিথি পাখিরা যখন শীতের চাঁদরমোড়া বাংলায় আসে তখন যে কী ভালো লাগে।

আচ্ছা বন্ধু, একবার বেড়াতে এসো না, এ প্রকৃতির কন্যার কোলে! নিশ্চয়ই মজা হবে। আজ এখানেই থাক। আরেকদিন লিখব তোমাকে।

ইতি

তোমার বন্ধু

খাদিজাতুল স্বর্ণা

আরো দেখুন-

সকল স্তরের শিক্ষা সংক্রান্ত সঠিক তথ্য, সরকারি-বেসরকারি চাকুরি বিজ্ঞপ্তি, চাকুরির পরীক্ষা, এডমিট কার্ড, পরীক্ষার রুটিন, সরকারি বেসরকারি বৃত্তি, উপবৃত্তি ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজটি Follow করে রাখুন।

ইউটিউবে সর্বশেষ আপডেট পেতে বাংলা নোটিশ ডট কম এর ইউটিউব চ্যানেলটি Subscribe করে রাখুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের যেকোন বিজ্ঞপ্তি, খবর, নোটিশ ও জাতীয় রাজনৈতিক বিষয়ে লেখা প্রকাশ করতে চাইলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

আনসার আহাম্মদ ভূঁইয়া

আমি একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক, শিক্ষা-তথ্য গবেষক এবং শিক্ষা বিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের স্কুল-কলেজ শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া, এমপিও কার্যক্রম, উপবৃত্তি, একাডেমিক নোটিশ এবং শিক্ষানীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে আসছি। বাস্তব অভিজ্ঞতা, তথ্য যাচাই এবং সরকারি নির্দেশনার আলোকে নির্ভুল ও আপডেটেড তথ্য প্রদান করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আমি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ভরযোগ্য, অথেনটিক এবং সহজবোধ্য শিক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করি। প্রতিটি কনটেন্ট প্রকাশের আগে তথ্যের উৎস যাচাই, নির্দেশিকা বিশ্লেষণ এবং ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বিবেচনা করা হয়, যাতে পাঠকরা সঠিক ও কার্যকর নির্দেশনা পান। শিক্ষা ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি দূর করা, জটিল প্রক্রিয়াকে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা এবং দ্রুত আপডেট পৌঁছে দেওয়া— এই তিনটি বিষয়কে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করি। আমার বিশ্বাস, বিশ্বস্ত তথ্য, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং স্বচ্ছ উপস্থাপনই একটি শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মের মূল ভিত্তি। সেই লক্ষ্যেই আমি নিরন্তরভাবে কাজ করে যাচ্ছি, যাতে শিক্ষাসংক্রান্ত সঠিক তথ্য সবার কাছে সহজে পৌঁছে যায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close

অ্যাডস্ ব্লকার পাওয়া গেছে!

দয়া করে আমাদের সাপোর্ট করার জন্য আপনার এডস্ ব্লকার ডিজেবল করে পেইজটি রিলোড করুন! ধন্যবাদ